কুড়িগ্রামে তথ্য গরমিলে প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা পাননি ৮,৭৫৭ হতদরিদ্র

৪৮ Views

সুভাষ চন্দ্র, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি::

কুড়িগ্রামের উলিপুরে হতদরিদ্র পরিবারের ৮ হাজার ৭৫৭ জন মানুষের কাছে এখন পর্যন্ত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তার অর্থ পৌঁছায়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম-তারিখ, সিম রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন তথ্যের গরমিল থাকায় এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তারা।

জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ১ পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ১৭ হাজার ১০৬ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তার জন্য তালিকাভুক্ত করেন স্থানীয় জন-প্রতিনিধিরা।

তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খাম-খেয়ালীপনার কারণে এ সমস্যায় পড়ে তারা সুবিধা বঞ্চিত রয়েছেন। এ ছাড়া সংশোধিত তালিকায় নাম নেই, এমন অনেক তালিকাভুক্ত উপকারভোগীও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে দেওয়া ২ হাজার ৫০০ টাকা এখনও পাননি।

করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদুল ফিতরের আগে তাদের স্ব-স্ব মোবাইলের মাধ্যমে টাকা পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখনও অনেকে তাদের এ টাকা পাননি। ফলে এসব জনগোষ্ঠির মাঝে চরম অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষে সারা দেশে ৫০ লাখ পরিবারের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তার প্রদান কর্মসূচির উপকারভোগীর তথ্য সংশোধনের জন্য সংশোধনী তালিকা এসেছে। উলিপুর পৌরসভার তালিকাভুক্ত ২ হাজার ১৬ জনের মধ্যে ৭১৯, হাতিয়া ইউনিয়নের তালিকাভূক্ত ১ হাজার ২৪৯ জনের মধ্যে ৩৪৬জন, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪২৯ জনের মধ্যে ৭১১, সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ৮৮১ জনের মধ্যে ৪৪১, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ৭৬৫ জনের মধ্যে ৩২৭, গুনাইগাছ ইউনিয়নের ১ হাজার ২১৯ জনের মধ্যে ৯১৯, তবকপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৫২২ জনের মধ্যে ৪১১, ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের ১ হাজার ২০৭ জনের মধ্যে ৭৯৬, দলদলিয়া ইউনিয়নের ৯৯৫ জনের মধ্যে ৬২১, থেতরাই ইউনিয়নের ১ হাজার ৩০ জনের মধ্যে ৭১৯, ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ৯৪৪ জনের মধ্যে ৫৪২, দূর্গাপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৭৮ জনের মধ্যে ৯৪৮,পান্ডুল ইউনিয়নের ১ হাজার ৬ জনের মধ্যে ৬০৫ ও বজরা ইউনিয়নের তালিকাভূক্ত ১ হাজার ৩৬৫ জনের মধ্যে ৬৬২ জনের নামের তথ্যে বিভিন্ন গরমিল থাকায় তাদের সংশোধিত নতুন তথ্য প্রেরণের জন্য নির্দেশনা আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, সিম রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন তথ্যের গড়মিল থাকায় এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এসব উপকারভোগী। এ পরিস্থিতিতে উপকারভোগীদের তথ্য নতুনভাবে যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট জন-প্রতিনিধিরা তথ্য প্রেরণের কাজ করছেন।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এখনও টাকা পাননি এমন অনেকেই জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, সিম রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য তথ্য ঠিক থাকলেও তাদের মোবাইলে এখনও টাকা আসেনি। এমনকি সংশোধিত তালিকায়ও তাদের নাম নেই। এ পরিস্থিতিতে অনেকটাই শংকিত তালিকাভুক্ত এসব উপকারভোগীরা।

হাতিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বি এম আবুল হোসেন বলেন, সংশোধিত তালিকার ভুলত্রুটি সংশোধন করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা ভুক্ত কেউ টাকা না পেলে তারা আগামীতে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমেও টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে তালিকাভুক্ত কোনো উপকারীভোগী বঞ্চিত হবেন না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের বলেন, তালিকাভুক্ত যেসব উপকারভোগীর তথ্যে ভুল আছে তা সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে। কোনো উপকারভোগী যাতে অর্থ বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা মতো কাজ করা হবে।