কুড়িগ্রামে পানি হ্রাস অব্যাহত: আশ্রিতরা ঘরে ফিরলেও অবর্ণনীয় কষ্টে আছে

৭০ Views

সুভাষ চন্দ্র, উলিপুর(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি::

কুড়িগ্রামে সবগুলো নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্র ও বিভিন্ন সড়কে কোনো রকমে চালা তুলে আশ্রিত মানুষজন ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।

তবে দীর্ঘসময় ধরে পানি থাকায় কর্দমাক্ত ঘরে অবর্ণনীয় কষ্টের মুখে পড়েছে এ সব ঘরে ফেরা মানুষজন। এর উপর এলাকায় কাজ না থাকায় খাদ্য সংকটে আছে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা কম হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ ত্রাণ সহায়তার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এবারে বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণের তেমন কোনো দৃশ্য চোখে পড়ছে না।

উলিপুর উপজেলার বন্যা কবলিত হাতিয়া ইউনিয়নের চর বাগুয়া ও সাহেবের ইউনিয়নের কাজিয়ার চর ঘুরে দেখা গেছে, ডুবে থাকা বাড়িঘরে মানুষ ফিরে আসলেও নলকুপগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খাবার পানির তীব্র সঙ্কট রয়েছে । এছাড়াও কৃষিজীবী পরিবারগুলোর মাঝে গবাদিপশুর খাদ্য সঙ্কট লক্ষ্য করা গেছে।

চর বাগুয়ার আসর উদ্দিন জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ তারা পানিবন্দি থেকেও এ পর্যন্ত কোনো সরকারি সাহায্য পাননি, এমন কথা জানালেন ওই চরের একাব্বর, শাহাবুদ্দিনসহ অনেকে।

এদিকে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষেতগুলোতে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের পচনশীল গাছ চোখে পড়ছে। পাানি হ্রাস এর গতি ধীর হওয়ায় এখনও অনেক ঘরবাড়িতে পানি রয়েছে। চরাঞ্চলে পাটের আংশিক ক্ষতি হলেও আউশ ধানসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি, মরিচের ক্ষেতের ব্যাপত ক্ষতি হয়েছে।

ঘর-বাড়ি থেকে পুরোপুরি বন্যার পানি নেমে না যাওয়ায় ২ সপ্তাহ ধরে পাকা সড়ক, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো অনেকই মানবেতর জীবন-যাপন করছে। অন্যদিকে বন্যা কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ঘর-বাড়িতে দুর্ভোগ বেড়েছে।

কুড়িগ্রাম খামার বাড়ি সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ৯ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন জাতের ফসল ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে পাট ৫ হাজার ৮৪০ হেক্টর, বীজতলা ৫৩২ হেক্টর, আউশ ধান ১ হাজার ৯৫৫ হেক্টর ও সবজি ক্ষেত ৮৬০ হেক্টর সম্পুর্ণ বিনষ্ট হয়েছে।

জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন শাখা জানায় ৯ উপজেলার ৫৬ টি ইউনিয়নের ৩৭ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সম্পুর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। এছাড়া ২০০ মেট্রিকটন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পাওয়া গেছে। যা বিতরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।