নন্দীগ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে চয়েন উদ্দিন স্মৃতি পাঠাগার

৩৪৮ Views

জিল্লুর রয়েল, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি ::

বগুড়ার নন্দীগ্রামে সাধারণ পাঠকদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে চয়েন উদ্দিন স্মৃতি পাঠাগার। উপজেলার ২নং নন্দীগ্রাম ইউনিয়নের গোছন গ্রামে স্থাপিত এই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বইপ্রেমী মানুষের কাছে ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ডা. চয়েন উদ্দিন ছিলেন এলাকার একজন বিদ্যানুরাগী সমাজসেবক। তিনি একজন চিকিৎসক হওয়ায় এলাকাবাসীদের সুনামের সহিত তিনি চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। এছাড়াও রণবাঘা জামে মসজিদ তিনিই প্রতিষ্ঠা করেছে।

অন্যান্য ধর্মীয়, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানেও তার অবদান ছিল। তিনি তার সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সক্ষম হন। ২০০৯ সালে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের লাইব্রেরিয়ান কামাল পাশা তার বাবার নামে এই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করে। প্রাথমিকভাবে ২২৫টি বই নিয়ে এই পাঠাগারের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি বই রয়েছে।

আর এসব বই পড়ে জ্ঞান নিতে প্রতিদিন আসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর বইপ্রেমী মানুষ। পাঠকদের উন্নত মানসিকতার সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে এই পাঠাগারটি। গত ২০১৪ সালে গণগ্রন্থাগারের আওতায় এই পাঠাগারটি সরকারি তালিকাভুক্ত হয়েছে।

বইপ্রেমী মানুষরা ফেরত দেয়ার শর্তে বাড়িতে নিয়েও বই পড়তে পারছে। বিকেল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত চলে বই দেয়া-নেয়া ও পড়ার সুযোগ রয়েছে।

এছাড়াও প্রতি বছর চয়েন উদ্দিন স্মৃতি পাঠাগারের আয়োজনে কৃতী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, পাঠক সমাবেশ, কুইজ প্রতিযোগিতা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

চয়েন উদ্দিন স্মৃতি পাঠাগারে বই পড়তে আসা উম্মে হাবিবা নামের এক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, গ্রামে বসবাস করায় পাঠ্য বইয়ের বাইরে বই পড়ার তেমন কোনো সুযোগ হয় না তাদের। ফলে অতিরিক্ত জ্ঞান অর্জনের জন্য চয়েন উদ্দিন স্মৃতি পাঠাগারে আসে তারা।

এ বিষয়ে পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের লাইব্রেরিয়ান কামাল পাশা বলেছে, পাঠাগারে প্রতিদিন অনেক পাঠক আসে। সবার সহযোগিতায় পাঠাগারটি এগিয়ে যাবে বহুদূর। এতে বিভিন্ন অপকর্ম থেকে দূরে থাকবে তরুণ সমাজ।

পাঠাগারের উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা গামা বলেছে, পাঠাগারে গিয়ে মানুষ পৃথিবীর বিচিত্র সব জ্ঞানভান্ডারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। নিত্যনতুন উপলব্ধি আর অভিজ্ঞতায় নিজেকে বিকশিত করা যায় পাঠাগারের মাধ্যমে।