মুন্সীগঞ্জে অনেকেই হাটে উঠাবেন না কোরবানীর পশু, দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

১৮২ Views

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ::

বন্যা ও করোনা দূর্যোগে হতাশা ও দুশ্চিন্তায় রয়েছে মুন্সীগঞ্জের গরু খামারিরা। এবার জেলায় ৪১টি হাটে কোরবানীর পশু বেচা-কেনা হবে। তবে এবার অনেক খামারি তাদের কোরবানীর পশু নিয়ে হাটে উঠাবেন না। দাম নিয়েও তারা শঙ্কায় আছেন।

গত ৪-৫ মাসে খাদ্য ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে পশু প্রতি যা খরচ হয়েছে, সে তুলনায় মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় আছেন জেলার খামারিরা।

মুন্সীগঞ্জ জেলার ৬ উপজেলায় ছোট-বড় গরু খামারিদের সংখ্যা প্রায় ৩ শতাধিক। এর মধ্যে ২ শতাধিক রয়েছে মোটা-তাজা করণের খামার। পাশা-পাশি রয়েছে দুগ্ধ খামারও। সরকার খামারিদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। গত বছর প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় প্রাণি সম্পদ সম্প্রসারণ দপ্তরটি ঢালাও ভাবে সাঁজিয়েছেন।

ইউনিয়ন ভিত্তিক মাঠ পর্যায়ে অনেক কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। যাতে করে খামারিয়া আগ্রহ ও আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসেবাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। এছাড়া এবার জেলা ভিত্তিক অনলাইন সিস্টেমে পশু বিক্রি করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে।

সিরাজদিখান উপজেলার দেওয়ান ডেইরী ফার্মের মালিক হাজী মকবুল হোসেন আনু জানান, খামার থেকেই তারা গরু বিক্রি করছেন। এবার কোন লাভ হচ্ছে না। নানা সমস্যার কারণে তারা এবার হাটে উঠাবেন না তাদের পশু।

কাজীরবাগ সখের খামার এর অংশিদার মাহমুদ দেওয়ান জনি জানান, আমাদের এ ফার্মে ১ লাখ টাকা থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত গরু রয়েছে। সর্ব নিম্ন ৪ মণ থেকে সর্বোচ্চ ১৬ মণ পর্যন্ত এদের ওজন।

শ্রীনগর হাসান ডেইরী ফার্মের ম্যানেজার জানান, তাদের ফার্মে বন্যার পানি প্রবেশ করায় নানা সম্যায় পরেছেন সেই সাথে করোনা দূর্যোগ। হাটে নিবেন না গরু। বিক্রি না হলে পরের কোরবানীর প্রস্তুতি তারা নিচ্ছেন। তবে খামার থেকে কিছু বিক্রি হচ্ছে।

মালখানগর ছাগল খামারের মালিক মো. রাকিব জানান, করোনার কারনে তারা হাটে যাবেন না। তাদের এখানে সর্বোচ্চ ৭০ কেজি ওজনের ছাগল আছে। ১ থেকে দেড় লাখ টাকা দামের ছাগল রয়েছে এখানে। যে কেউ যোগাযোগ করে নিতে পারেন।

সিরাজদিখান প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের এলএসপি সেলিনা ইসলাম জানান, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় তারা সব সময় মাঠে আছেন। খামারীদের সুবিধা অসুবিধায় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। যাতে করে খামারীরা এ পেশা থেকে সরে না যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সরকারের নানা প্রকার উদ্যোগে খামরীরা আগামীতে আরো ভালো কিছু করতে পারবে। বর্তমানে তারা সরকারি ওয়েব সাইটে গরুর ছবি ওজন মুল্য ও ঠিকানা দিয়েছেন।

জেলার লৌহজং উপজেলার নিউটরিফ্রেস ডেইরী ফার্ম এবার ২ শতাধিক কোরবানীর পশু দেশীয় খাবার দিয়ে মোটা তাজা করেছেন। এরই মধ্যে সেখানে বিক্রি হয়েগেছে শতাধিক। তবে তারা লোকশানে আছেন খরচ তুলনায়। তাদের সব মিলিয়ে আড়ইশ গরু এখন আছে। গত ৫ মাসে দুগ্ধেও ক্ষতিগ্রস্ত, ক্ষতি পুশিয়ে উঠতে পারছেন না তারা।