সিরাজদিখানে সরকারি প্রকল্পর টাকা নিয়ে ব্যক্তিগত জায়গায় ভরাট

১৪২ Views

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ::

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে নাটকীয় ভাবে ব্যক্তিগত জায়গায় জনগণের চলাচল করার জন্য রাস্তার কথা বলে টিআর প্রকল্পর টাকা আত্মসাধ করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের দক্ষিণ চাইনপারা গ্রামে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি প্রকল্পের টাকায় রাস্তা নির্মাণ না করে ব্যক্তিগত জায়গায় মাটি ভরাট করা হয় । মাটি ভরাটের আগে রাস্তা কথা বলে সরকারি প্রকল্পের টাকা নেয়া হয়। কিন্তু মাটি ভরাটের পর জনগণকে রাস্তা না দিয়ে কাঁটাতার দিয়ে বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজান শেখের বিরুদ্ধে। বেড়া দেওয়ার ফলে তিনটি পরিবার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা যায়, উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের দক্ষিণ চাইনপাড়া গ্রামের মিজান শেখের বাড়ি থেকে আলম শেখের বাড়ি পর্যন্ত একটি রাস্তা তৈরি করার জন্য ৯২ হাজার টাকা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের টি.আর প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ইউনিয়নের ৭ নং ইউপি সদস্য মো. আবু সাঈদ মাদবর। ইউপি সদস্য আবু সাঈদ মাদবর মিজান শেখকে রাস্তা নিমার্ণের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু মিজান শেখ সরকারি প্রকল্পের টাকায় ব্যক্তিগত জায়গায় মাটি ভরাট করে। মাটি ভরাটের পর জনগণকে রাস্তা না দিয়ে কাঁটাতার দিয়ে বেড়া দিয়ে রাখেন। এর ফলে তিনটি পরিবার বাড়ী থেকে বের হতে পারছেন না।

এলাকাবাসীর জানান, ইউপি সদস্য আবু সাঈদ ও মিজান এই দুজন বালু ভরাট দেখিয়ে সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাধ করে। কিন্তু সেখানে রাস্তা না করে ব্যাক্তি স্বার্থে পুকুর ভরাট করে দিয়েছে ইউপি সদস্য মিজান শেখকে। এছাড়া মিজান শেখ বাশের বেরা দিয়ে নান্নু শেখ, কাশেম শেখ ও হাসেম শেখের বাড়ীর লোকজনের যাতাযাত বন্ধ করে দিয়েছে।

আটকে পার বাড়ীর এক মহিলা বলেন, আমরা এখন বাসা থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের পিছনে সরকারি রাস্তার হওয়ার কথা ছিল আমার বাসার উত্তর পাশ দিয়ে। সরকারি হওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে জাগাও রেখে দিয়েছে। এখন সেই রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বের হওয়ার জন্য আরেকজনকে সুপারিশ করে এখন আমরা বের হচ্ছি।

সুমন শেখ বলেন, এটা আমার দাদার কেল্লা জায়গা, এখানে সরকারের কোনো প্রজেক্ট হয়েছে এটা আমরা জানি না এবং আমাদেরকে কেউ জানাই নাই। আমাদের টাকা দিয়ে বালু ভরাট করেছি। তাই বাড়ীর দেয়াল দিয়েছে। চেয়ারম্যান সাহেব বলে গেছে এটা আমাদের ভুল না। সরকারি টাকা আসুক বা না আসুক আমরা জানি না। আমাদের জায়গায় কোন সরকারি মাটি ফালানো হয় নাই। চেয়ারম্যান সাহেব দুইটা সালিশ করেছে এই জায়গার বিষয়ে। এখানে বলা হয়েছে যে ভুল করেছে মিজান।

অভিযুক্ত মিজান শেখ বলেন, সাঈদ মেম্বার সাহেব আমাকে ৭২ হাজার টাকা দিয়েছে। পাশের বাড়ির তারা জায়গা না দেওয়ায় আমি রাস্তা আমার জমির ভরাট করছি। আমার ব্যক্তিগত রাস্তা দিয়ে কারো যেতে দিবোনা। আমার পাশের বাড়ির সুমনরা সরকারি যে রাস্তা বানানো হয়েছে সেই জায়গায় ওয়াল দিয়ে রেখেছে। সেই জন্য আমি ও আমার জমির উপর দিয়ে বেড়া দিয়ে রেখেছি। তারা যদি ওয়াল ভেঙে দেয় তবে আমিও আমার জমি থেকে বেড়া সরিয়ে রাস্তা দিয়ে দিব। দরকার হলে আমি প্রকল্পের টাকা ফিরিয়ে দিবো।

জৈনসার ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য আবু সাঈদ মাদবর জানান, আমি মিজানকে টাকা দিয়েছি রাস্তা করার জন্য। চেয়ারম্যান সাহেব দুই পক্ষকে ঢেকেছিল, তারা আসেনি। তখন চেয়ারম্যান সাহেব বললো সাবেক মেম্বার আর তোমরা বসে এটা মীমাংসা করো। কোন সমাধান হয়নি। প্রকল্পটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ আসছিল।

জৈনসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দুদু বলেন, আমি প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছি। মেম্বার রাস্তার তৈরি করছে। আমি মেম্বার ও মিজানকে বলেছি সরকারি টাকার রাস্তা বুঝাইয়া দিতে। সরকারি টাকার রাস্তা কোথায় সেটা তারা বের করে দিবে।