সিরাজদিখানে সেবা দেয়ার জন্য ছুটে চলা তিন করোনা যোদ্ধা

১৯৬ Views

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ::

করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে কখনো হাসপাতাল, কখনো মানুষের বাড়িতে জীবিত অথবা মৃত ব্যাক্তির নমুনা নিচ্ছেন । এভাবেই মানুষের সেবা দেয়ার জন্য ছুটে চলা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ।

তারা প্রতিদিন সকাল ৮ টার মধ্যে হাসপাতালে পৌছান। এর পর পারসোনাল প্রটেকশন নিয়ে ৯টার মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করতে থাকেন। চলতে থাকে দুপুর পর্যন্ত। বলা হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ইপিআই মো. আলমগীর হোসেন গাজী,মো. তোফাজ্জল হোসেন ও শিব শংকর দাস তারা দুজন এমটি ল্যাব। এই তিন করোনা যোদ্ধার কথা।

জানাযায়,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এপ্রিল মাসের ৩ তারিখ থেকে কোভিড-১৯ নমুনা কালেকশন শুরু হয়। নিজ দ্বায়িত্বে জনগুরুত্বপূর্ণ জীবন রক্ষাকারী রুটিন ইপিআই টিকাদান কাজের ভ্যাক্সিন সরবরাহ কাজের পাশাপাশি মো. আলমগীর হোসেন গাজী করোনা স্যাম্পল কালেকশনের মতো মৃত্যু ঝুকিপূর্ণ কাজের সাথে অদ্যাবধি জড়িত আছেন।

উপজেলার ১৪টা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে নিজ খরচে নিজের মটর সাইকেল দিয়ে ঘুরে ঘুরে হাসপাতালে আসতে অক্ষম সন্দেহজনক করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ সহ শনাক্তকৃত পজিটিভ করোনা রোগীদের ফলোআপ স্যাম্পল কালেকশন কাজ করে চলেছেন।

মে মাসের ৭ তারিখে তাহার স্ত্রী এবং মে মাসের ১১ তারিখে তাহার একমাত্র ছেলে কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়া সত্বেও স্যম্পল কালেকশনের লোকবল কম থাকার কারনে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কোয়ারেন্টাইনে না থেকে মানবিক কারনে অবিরাম নীরবে কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ করার কাজ করে উপজেলা বাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটি ল্যাব তোফাজ্জল হোসেন কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ার কারনে আলমগীর হোসেন গাজীর উপর স্যাম্পল কালেকশনের আরো বাড়তি চাপ পড়েছে।

তিনি প্রতিদিন কাকডাকা ভোর ৬.৩০ মিনিট হতে ৭ টার সময় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে নিজ দ্বায়িত্ব রুটিন ইপিআই কাজের ভ্যাক্সিন সরবরাহ দেওয়ার পরে শুরু হয় তাহার কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের কাজ। এরপর বিকালে অফিসিয়াল অন্যান্য কাজ সেরে পরের দিনের কাজের প্রস্তুতি নিয়ে রাত ৮ টা থেকে ৯টা হাসপাতাল ত্যাগ করে নিজ গৃহে যান।

তিন জনেই বলছেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা প্রথম দিকে একটু কষ্টের ছিল। করোনা নমুনা সংগ্রহকে যখন থেকে শুধু কাজ নয়,মহান দায়িত্ব মনে করলাম। সে দিন থেকে এটা নেশায় পরিণত হয়েছে।

মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ল্যাব শিব শংকর দাস জানান, আমার আত্মীয়দের মধ্যে ১০/১৫ জন কোভিড আক্রান্ত ছিলো । কিন্তু আমি সেবার কাজ থেকে পিছপা হননি।

রোগীর সংখ্যা খুব বাড়ছে।এ অবস্থায় পরিবারের মানুষের কথা মনে থাকলেও দায়িত্বটা প্রবল।পরিবারের চেয়ে মানুষের প্রয়োজনটা এখন খুব বেশি। কাজটা এখন নেশায় পরিণত হয়েছে। কাজ ছাড়া অন্য কিছু মাথায় থাকেনা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মো.বদিউজ্জামান জানান,শুরু থেকেই এ তিনজন নিজেদের উৎসর্গ করে কাজ করে যাচ্ছেন। রোগীদের চাপে এক মুহুর্তের জন্য তারা বিরক্ত হয়নি। বরং হাসি মুখে উপজেলার সর্বত্রই নমুনা সংগ্রহে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বেশী কাজ করতে হচ্ছে আলমগীর হোসেন গাজীর।

তার স্ত্রী এবং একমাত্র ছেলের কোভিড পজিটিভ হওয়া সত্বেও স্যম্পল কালেকশনের লোকবল কম থাকার কারনে কোয়ারেন্টাইনে না থেকে মানবিক কারনে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। শুক্রবার পর্যন্ত উপজেলায় সর্বমোট ৩৬০ জন করোনায় আক্রান্ত, সুস্থ হয়েছে ২৭০ জন ও মৃত্যু ৯ জনের।