সিরাজদীখানে বসছে কুরবানির ৯টি পশুরহাট ক্রেতা-বিক্রেতার স্বাস্থ্যবিধি মানতে কড়াকড়

১১৫ Views

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ::

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় এবার কুরবানির পশুর হাট বসছে ৯টি স্থানে। এবারের পশুর হাটে করোনা ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণভাবে মানতে পারে তার জন্য ইজারাদারসহ আইনশৃংখলা বাহিনী বিশেষ নজরদারি করবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে পশু খামারিদের দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ না কমায় খামারিরা চিন্তায় রয়েছে। খামারিরা পশু বাজারে নিতে পারবেন কিনা, বাজারে নিলেও ক্রেতা মিলবে কিনা, ক্রেতা মিললেও দাম সঠিক পাবেন কিনা এসব নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।

উপজেলায় এবার বসছে মালখানগর গরু ছাগলের অস্থায়ী হাট, ইছাপুরা গরু ছাগলের অস্থায়ী হাট,কুচিয়ামোড়া গরু ছাগলের অস্থায়ী হাট, ইমামগঞ্জ বাজার গরু ছাগলের অস্থায়ী হাট, হাজী বাজার গরু ছাগলের অস্থায়ী হাট, বানু মার্কেট গরু ছাগলের অস্থায়ী হাট, মাস্টার আ. রহমান একাডেমী খেলার মাঠ অস্থায়ী হাট, খালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ অস্থায়ী হাট, নয়াগাও মাদবরের অস্থায়ী হাট।

আসন্ন ঈদুল আযহা’র পশুরহাটে ও পশু কুরবানীতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার্থে ঈদুল আজহার কুরবানির পশুরহাটে বয়স্ক ও শিশুসহ একটি পশু ক্রয়ে দুইতিন জনের অধিক মানুষ হাটে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলায় অনেক গরু, ছাগলের ছোট ছোট খামার গড়ে উঠেছে। গ্রামের একজন বিধবা মহিলা বা সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ গরু, ছাগল পালন করে যাচ্ছে। এখন অনেক শিক্ষিত যুবক ডেইরি ফার্ম ও গরু মোটা তাজাকরণকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। যে কারণে প্রত্যন্ত এরাকায় ছোট ছোট গরু, ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। সারাবছর কসাইদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি কিছু কিছু স্পেশাল গরু তৈরি করা হয় কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা নিয়ে তারা এখনো দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারেননি। মূলত কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারাবছর গরু লালন-পালনে তারা বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন। তাই এখন পশু বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন খামারিরা।

ইছাপুরা ইউনিয়নের লোহার পুকুরপাড় প্রামের খামারি মো.রবিউল সরদার বলেন, এবার আমি প্রথম বার খামারে ১০টি গরু মোটাতাজা করেছি ,কুরবানির হাটে বিক্রির করার জন্য। এত টাকা বিনিয়োগ করে যদি কুরবানির ঈদে দাম ভালো না পাই তাহলে আমাদের মতো খামারিদের দুঃখের কোনো সীমা থাকবে না। গরু পালন করতে গিয়ে অনেক ঋণ হয়েছে। ধার-দেনা করে কুরবানির আশায় গরু পালন করেছি। করোনার বর্তমান অবস্থায় এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি।

রশুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তাজপুরের গ্রামের আখতারুন বলেন, স্বামী নেই তাই গরু লালন পালন করে সংসার চালাই, অনেক ধারদেনা করে ৩ টি গরু এক বছর ধরে সস্তানের মত লালন পালন করে আসছি । বাজার ঠিক থাকলে গরুর দাম ভালো পাব বলে আশা রাখি। যদি করোনার কারণে বাজারে উপযুক্ত দাম না পাই তাহলে আমার অনেক কষ্টে দিন পাড় করতে হবে। কুরবানির হাট ছাড়া কসাইদের কাছে গরু বিক্রি করলে লোকসান গুণতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মো.বদিউজ্জামান বলেন, যিনি কোরবানী পশুজবাই করবেন তিনি যেন প্রতিবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জবাই করার মাধ্যমে তিনি ওসংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করতে না পারেন। মাংস প্রস্তুত করার কাজে যার জড়িত থাকেন তারা সুস্থ কিনা সে বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন। মাংস প্রস্তুতকারী কারো মাঝে জ্বর-কাশি বা করোনার কোন উপসর্গ থাকলে তাকে কোন বাসায় মাংস প্রস্তুতে না যায়। পবিত্র ঈদ উল আজহায় স্বাস্থ্য বিধি মানার বিষয়ে সচেতন করতে ইমাম ও ওলামাদের এগিয়ে আসার আহবান। সচেতনতা সৃষ্টিতে ইমাম-ওলামাদের উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকার রাখতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশফিকুন নাহার বলেন,পশুর হাটের দরপত্রে এবার ইজাদাররা ধূর-দূরান্ত থেকে আগত পাইকারদেও জান-মালের নিরাপত্তাসহ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা বাধ্যতামূল করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদেও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পর্যপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং নিজ খরচে পশুর হাটে বিদ্যুৎ, পানি, স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।