সিরাজদীখানে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান নৌসেনা ইসমাইল হোসেন

৭৪ Views

সিরাজদীখান প্রতিনিধি::

প্রিয় দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন মো.ইসমাঈল হোসেন। কর্মসূত্রে তিনি ছিলেন ততকালিন নৌবাহিনীর পেটি অফিসার। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৯ বছর পরও একজন নৌসেনা অফিসার হয়েও মুক্তিযোদ্ধার গেজেটে অর্ন্তভুক্ত হতে পারেননি।

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গেজেট তালিকাভুক্ত না হওয়ায় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অযত্নে-অবহেলায় দিন কাটছে এই নৌসেনার। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই অপেক্ষায় রয়েছেন যদি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পান তাহলে গর্বে সঙ্গে মৃত্যু বরন করতে চান।

জানা যায়,১৯৬৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দীর্ঘ ৩২ বছর নৗবাহিনীতে কর্মরত থাকার পর অবসরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধে সাহসিকতায় অংশ গ্রহন করায় তিনি জাতীয় ভাবে সমর পদক,বিজয় পদক, জয় পদক, সংবিধান পদক,সামরিক জ্যৈষ্ঠতা পদক ১ ও ২ মেডেলে ভূষিত হন।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসনগর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা মো.ইসমাঈল হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে আমি পাকবাহিনীর বন্দীশালায় বন্দী ছিলাম। চট্টগ্রাম নৌবাহিনী ক্যাম্পে বন্দিশিবিরে ১০/১৫ জন করে পাকিস্তানের করাচিতে বিমানযোগে ঢাকা বিমানবন্দর হইতে পাঠানো শুরু করে। আমি সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলিয়া আসি। তারপর ফতুল্লা থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে যোগদান করি।

৩ মাস পর সিরাজদীখান থানার ততকালিন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. দেলোয়ার এর সাথে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্টপ্রতি জিয়াউর রহমান এর আমলে আমি আমার কাগজপত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার প্রধান কার্যলয়ে আবেদন করি। তারপর সিরাজদীখান উপজেলায় যোগাযোগ করতে থাকি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে গেজেটে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

দ্বিতীয় বার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই করার সময় তখন আমি চট্টগ্রাম নৌক্যাম্পে থাকার কারণে আমি জানতে না পারায় কাগজপত্র জমা দিতে পারিনি। বর্তমান সরকার পুনরায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই এর উদ্যোগ নিলে আমার মনে আবার আশার আলো সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি এবার আমার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে। তবেই আমি সম্মানের শহিত মৃত্যু বরন করতে পারবো।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অব.নৌবাহিনীর কেটারিং অফিসার সামসুল হুদা বলেন, আমরা দুজনেই নৌবাহিনীতে এক সাথে কর্মরত ছিলাম। কিন্তু আমি যুদ্ধচলাকালীন সময়ে আমার সাথে তার দেখা হয়নি। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে পদ্মা পলাশের ক্র ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধে ওই জাহাজের যুদ্ধ করেছি। আমি এতোটুকুই জানি সেসময় সে তার গ্রামে চলে আসে। আমি শুনেছি সে মুক্তিযোদ্ধে অংশ নেয়। তার মধ্যে আর আমার মধ্যে যুদ্ধের সময় যোগাযোগ হয়নি। তার সাথে আবার যোগাযোগ হয় যুদ্ধের পরে।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত নায়েক ও বালুচর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আলী আকবর বলেন,আমি জানি সে নৌবাহিনীতে ছিল,আমি সেনাবাহিনীর কর্মরত ছিলাম। আমি যুদ্ধে চলে গেছি সে করাচিতে যায়নি সে সময়ে তিনি গ্রামে চলে আসে। তিনি মুক্তিযোদ্ধে গেছে কিনা আমি তা জানি না। কারণ আমি যুদ্ধের সময় বর্ডারে ছিলাম। স্বাধীন হওয়ার পর গ্রামের বাড়িতে আসি।