সিরাজদীখানে ৫০ বছরেও রাস্তা পাকা হয়নি

২৪৬ Views

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ::

সিরাজদীখানে ৫০ বছরেও রাস্তা পাকা না হওয়ায় কাচা রাস্তার বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ৩ টি ওয়ার্ড চান্দের চর, খাসকান্দি, মদিনা পাড়া, মার্কেট পাড়া, পূর্ব চান্দের চর ও পশ্চিম চান্দের মাদরাসা পাড়ার হাজার হাজার মানুষের চলাচলে এক মাত্র এ রাস্তা। প্রায় ৫০ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে জর্জরিত হয়ে আছে।

রবিবার বেলা ১২ টায় সরেজমিতে দেখা যায়,রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার এবং ঢাকা মাওয়া মহাসড়ক ও কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে এ রাস্তাটি। ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে প্রতিনিয়িত পথচারী ও যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সড়কের ইট উঠে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচল করলে শুধু ধুলাবালি উড়ে।

এ ছাড়া বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি আটকে থাকে দীর্ঘদিন। এতে করে মাঝে মধ্যে যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ, মাদরাসা পড়ুয়া হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে। এতে হরহামেশা দুর্ঘটনার স্বীকারও হচ্ছে। রিকশা, ভ্যান,সিএনজি, মটরসাইকেল চলাচলে একেবারে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। বিপদের সময় ৩০ টাকার সিএনজি ভাড়া ১০০ টাকা দিলেও কোন যানবাহন যেতে চায়না। অভিযোগ আছে এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে অনবরত চলাচল করে ঘাতক মাহেন্দ্রা যার কারণ এই আধাকাচা রাস্তাও মেরামত করে সুফল পাচ্ছেনা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ।

জানা যায়,রাজধানীর এতো কাছে হওয়া সত্ত্বেও রাস্তা ঘাটের অবস্থা দেখলে বুঝা যায় স্বাধীনতার পর এই এলাকাগুলোতে সরকারের কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এলাকায় বসবাস রত ১২ হাজার মানুষ, ১৫ টি মসজিদ, ২ টি মাদরাসা, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৩ টি পাকা ব্রীজ, ৩টি নৌকা ঘাট, ৩টি বাজার, ২ টি ঈদগাহ ময়দানসহ ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ ময়দান রয়েছে এই এলাকায়।

গ্রামবাসীদের সাথে কথা হলে অনেকেই আক্ষেপের সুরে বলেন,আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব এই রাস্তা করার জন্য যথেষ্ট মনযোগী কিন্ত এই মেঘা প্রকল্প ইউনিয়ন পরিষদের স্বল্প বাজেট দ্বারা সম্ভব নয়।এই রাস্তা করার জন্য আমাদের এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন যেটা আমরা এলাকাবাসীরা পাইনি।ওনি এমপি হওয়ার পর আমরা আর তার চেহারা দেখিনি।এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীরাও একদিনের জন্য ভালোভাবে পরিদর্শনে আসেননি ।

বালুচর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক বলেন,উপজেলার সবচাইতে বড় বালুচর ইউনিয়ন। আর অত্র উপজেলায় সব থেকে অবহেলিত রাস্তা এই চান্দের চর এলাকার রাস্তাটি। বিগত কয়েক বছর যাবত চেষ্টা তদবির করে আসছি উর্ধতন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছি একাধিকবার । এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে প্রায়ই কথা হচ্ছে এ ব্যাপারে সর্বপুরি কথা হলো এই রাস্তাটি যাতে দ্রুত করা যায় সে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজেলার ১৪টা ইউনিয়নের মধ্যে বালুচর সর্ববৃহত ইউনিয়ন। বালুচর দুইটা ইউনিয়ন হওয়া দরকার ছিল । নদী এপার এক ইউনিয়ন আর ওই পারে আরেকটা। আমি চেষ্টাও করে ছিলাম দুই ইউনিয়ন করার জন্য। দুইটা ইউনিয়ন হলে উন্নয়ন কাজ বেশী করা যেত । এই রাস্তা ঘাটগুলার এমন অবস্থা থাকতনা। এ রাস্তার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। গতবারো কিছু বরাদ্ধ দিছি এবারো দেয়া হবে। যাতে এলাকার মানুষ গুলোর দুর্ভোগ কমাতে পারি।

উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ বলেন,এই এলাকার রাস্তার ব্যাপারে আমি অবগত আছি,স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহেব ও প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিচ্ছেন।ইতোমধ্যে রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আশা করি শীঘ্রই রাস্তার কাজ অনুমোদন হবে।

মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য মাহি বি চৌধুরী বলেন,আমার নির্বাচনী এলাকারগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন এই বালুচর।তার মধ্যে এই তিনটি ওয়ার্ড অন্যতম।ইতোমধ্যে আমি অন্যান্য বরাদ্দ দিয়েছি অতিশীঘ্রই কিভাবে রাস্তা পাকাকরন করা যায় সে ব্যবস্থা করবো।